কোম্পানির বিলোপসাধন বা অবসায়ন কি :-
কোম্পানি একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বিশেষ। তাই স্বাভাবিক ব্যক্তির ন্যায় কোম্পানির স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটতে পারে না। কৃত্রিম ব্যক্তি বিধায় কোম্পানির অবলুপ্তির জন্য কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হয় এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কোম্পানির পরিসমাপ্তি ঘটাতে হয়।
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানির সমাপ্তি ঘটাতে হয় তাকে কোম্পানির বিলোপসাধন বা অবসায়ন বলে। অর্থাৎ কোম্পানির বিলোপসাধন হলো একটি আইনানুগ প্রক্রিয়া যার দ্বারা কোম্পানি আইনগত সত্তার অবসায়ন ঘটানো হয় এবং ব্যবসায় গুটিয়ে ফেলা হয়।
কোম্পানির অবসায়ন সম্পর্কে অধ্যাপক পাওয়ার বলেন, “কোম্পানির অবসায়ন একটি প্রক্রিয়া যা দ্বারা এর জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটানো হয় এবং পাওনাদার ও সদস্যদের কল্যাণে এর পরিসম্পদ ব্যবহার করা হয়"।
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানির সমাপ্তি ঘটাতে হয় তাকে কোম্পানির বিলোপসাধন বা অবসায়ন বলে। অর্থাৎ কোম্পানির বিলোপসাধন হলো একটি আইনানুগ প্রক্রিয়া যার দ্বারা কোম্পানি আইনগত সত্তার অবসায়ন ঘটানো হয় এবং ব্যবসায় গুটিয়ে ফেলা হয়।
কোম্পানির অবসায়ন সম্পর্কে অধ্যাপক পাওয়ার বলেন, “কোম্পানির অবসায়ন একটি প্রক্রিয়া যা দ্বারা এর জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটানো হয় এবং পাওনাদার ও সদস্যদের কল্যাণে এর পরিসম্পদ ব্যবহার করা হয়"।
আরও পড়ুন:- প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কাকে বলে?
কোম্পানি আইনের দ্বারা সৃষ্ট। তাই যখন এর আইনগত অস্তিত্বের অবসায়ন ঘটিয়ে ব্যবসায় বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন তা অবসায়ন নামে পরিচিত হয়।
স্বাভাবিক ব্যক্তির যেমন মৃত্যু ঘটে তেমনি অবসায়নের ফলে কৃত্রিম ব্যক্তি কোম্পানিরও মৃত্যু ঘটে। কোম্পানির অবসায়নের জন্য একজন প্রশাসক বা অবসায়ক নিয়োগ করা হয়। অবসায়ক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ভার গ্রহণ করেন, এর সম্পত্তি বিক্রয় করে পাওনাদারদের দেনা শোধ করেন এবং কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে তা সদস্যদের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ করে দেন।
কোম্পানির বিলোপসাধন পদ্ধতি :-
কোম্পানি হচ্ছে একটি আইন সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা, এর বিলোপসাধনেও তাই আইনগত বিধিবিধান পালন করতে হয়। আইনের এ বিধানগুলো নিম্নে আলোচিত হলো:
১. আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন :-
আদালতের নির্দেশ অনুসারে কোম্পানির বিলোপসাধন হলে তাকে বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন বলে।যে সব অবস্থার প্রেক্ষিতে আদালতের অধীনে কোম্পানির বাধ্যতামূলক অবসায়ন হয় তা নিম্নে বর্ণিত হলো।
i. আদালত কর্তৃক কোম্পানির বিলোপসাধন করা হোক এ মর্মে যদি কোম্পানি বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তবে আদালত কোম্পানির বিলোপসাধনের নির্দেশ দিতে পারে।
ii. নিবন্ধকের নিকট বিধিবদ্ধ প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিধিবদ্ধ সভা আহ্বান করতে না পারলে কোম্পানির বিলোপসাধন করা যেতে পারে।
br />iii. যদি কোম্পানি নিবন্ধনের তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে ব্যবসায় শুরু না করে অথবা পুরো এক বছরের জন্য ব্যবসায় বন্ধ রাখে।
iv. প্রাইভেট কোম্পানির ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা ২ এর নিচে এবং পাবলিক কোম্পানির ক্ষেত্রে ৭ এর নিচে নামলে।
v. যদি কোম্পানি দেনা পরিশোধে অক্ষম হয়।
vi যদি আদালত অন্য কোনো বিশেষ কারণে ব্যবসায়ের বিলোপসাধনকে আইনসম্মত মনে করে।
আরও পড়ুন:- একমালিকানা ব্যবসায় উপযুক্ত ক্ষেত্রসমূহ কি কি?
২. কোম্পানির স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন (Voluntary dissolution of company) :-
আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কোম্পানির সদস্যবৃন্দ বা পাওনাদারগণ কোম্পানির বিলোপসাধন করলে তাকে স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন বলে। কোম্পানি আইন অনুসারে স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন দুই প্রকার:ক. সদস্যদের স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন :-
সদস্যদের স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন তখনই সম্ভব যখন কোম্পানি আর্থিক দিক থেকে সংগতিসম্পন্ন হয় এবং নিজের দেনা পরিশোধে সম্পূর্ণ সক্ষম থাকে। সদস্যদের স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধনের গুলো নিন্মরূপ
i. কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটলে কোম্পানির বিলোপসাধন করা হবে- এ মর্মে পরিমেল নিয়মাবলিতে উল্লেখ থাকবে এবং উক্ত ঘটনা সংঘটিত হলে।
ii. কোম্পানির স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন ঘটানোর জন্য যদি কোম্পানি বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
iii. কোম্পানি যদি খুব বেশি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
খ. পাওনাদারদের স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন :-
কোম্পানির আর্থিক সংগতি ঘোষণা ছাড়াই কোম্পানির স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা পাওনাদারদের স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন নামে পরিচিত। দেউলিয়া কোম্পানি কর্তৃক এ ধরনের বিলোপসাধনের আশ্রয় গ্রহণ করা হয়। এরূপ বিলোপসাধন সংক্রান্ত কার্যকলাপে পাওনাদারদের আধিপত্য থাকে। কোম্পানির দায়-দেনার কারণে কোম্পানি অসাধারণ প্রস্তাবের দ্বারা এ ধরনের বিলোপসাধন ঘটায়।
৩. আদালতের তত্ত্বাবধানে বিলোপসাধন (Dissolution under supervision of the court) :-
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আদালত তত্ত্বাবধানের কাজ করার নির্দেশ দিতে পারেন।ক. কোম্পানির অবসায়ক সম্পত্তি সংগ্রহে পক্ষপাতিত্ব বা অবহেলা করলে,
খ. বিলোপসাধনের নিয়মাবলি যথাযভাবে পালন না করলে।
গ. প্রতারণার মাধ্যমে বিলোপসাধনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে;
ঘ, অন্য যে কোনো কারণে আদালত যদি বিলোপসাধনের দায়িত্ব গ্রহণ যুক্তিযুক্ত বিবেচনা করে।
আরও পড়ুন:- অংশীদারি ব্যবসায় বিলোপসাধন?
আদালতের তত্ত্বাবধানে অবসায়নের নির্দেশদানের পর আদালত এক বা একাধিক অবসায়ক নিয়োগ দিতে পারেন। তারা স্বেচ্ছাকৃত অবসায়নে নিযুক্ত অবসায়কের ন্যায় সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
0 মন্তব্যসমূহ
Please do not enter any spam link in the comment box.